হযরত ওমরের ছেলের বিচার
হজরত ওমর (রা) ও তার পুত্র আবু শাহমা এর ব্যপারে বহুল
প্রচলিত একটি ভুল ও বানোয়াট গল্প
► সংক্ষেপে
প্রচলিত গল্পঃ হযরত ওমর (রা) এর পুত্র আবু শাহমা মদ্যপান করে একটি মহিলার সাথে
ব্যাভিচার করে। পড়ে মহিলাটি গর্ভবতী হয়ে পড়ে। একদিন সে তার বাচ্চাকে নিয়ে এসে হজরত
ওমর (রাঃ) এর কাছে এই বিষয়ে নালিশ করে। আবু শাহমা তখন খাচ্ছিলেন। সেই অবস্থায় ওমর
(রাঃ) তার পুত্রকে তাড়াতাড়ি খাবার শেষ করতে বলে।
এরপর ওমর (রাঃ) মদ্যপান ও ব্যাভিচার করার অপরাধে তাঁর
নিজ পুত্র আবু শাহমাকে ১০০ টি দোররা বা বেত্রাঘাত করেন এবং সেখানেই সাথে সাথে তাঁর
পুত্র মারা যায়। পরে নিজ পুত্রের কবরের পাশে গিয়ে ওমর (রাঃ) ক্রন্দন করতে থাকে। এই
ব্যাভিচার এর বিস্তারিত ঘটনা, স্বীকারোক্তি, শাস্তি, পিতা-পুত্রের কথাবার্তা নিয়ে লম্বা কাহিনী
এমনবভাবে প্রচলিত যে তা শুনলে শ্রোতাগণের চোখে পানি চলে আসে। এর সাথে অবাক হয়ে যাই
যে হজরত উমার (রা) এর ছেলে মদ্যপান ও ব্যাভিচার এর মত এমন খারাপ কাজ করতে পারল!
তখন স্বাভাবিকভাবেই তাঁর ছেলে আবু শাহমা কে খারাপ মনে হয়। কিন্তু সকল মুহাদ্দিসগন
একমত যে এটা একটা ভিত্তিহীন, মিথ্যা বানানো গল্প।
ইবনুল জাওযী বলেন, “সাধারন
শ্রোতাদেরকে কাঁদানোর জন্য জাহিল ওয়ায়েযগন এগুলো বানিয়েছে"। ► প্রকৃত সত্য ইতিহাসঃ এখন আমরা জানবো প্রকৃত সত্য ইতিহাস যা আবু শাহমার ভাই ইবনে উমার (রা), সেখান থেকে
সালিম, সেখান থেকে
মুয়াম্মার সেখান থেকে আবদ-আল-রাজ্জাক (ইমাম বুখারির শিক্ষক) তাঁর “মুসান্নাফ
আবদ-আল-রাজ্জাক” গ্রন্থে বর্ণিত করেছেন। সঠিক ঘটনা হলঃ হযরত উমার (রা) এর পুত্র
আবু শাহমার পূর্ণনাম হল আব্দুল রাহমান আবু শাহমা। তিনি মুসলিম সেনাবাহিনীর হয়ে
মিশরে যুদ্ধ করে জয়লাভ করার পর সেখানেই অবস্থান করেন। একদিন তিনি তাঁর বন্ধুকে
নিয়ে নাবীয (খেজুর ভিজিয়ে তৈরি করা শরবত) পান করেন।
কোন কারনে এই খেজুরের শরবতে মাদকতা এসে গিয়েছিল, ফলে তাদের
মাঝেও অনিচ্ছাকৃতভাবে হলেও মাতলামি চলে আসে। পরদিন তিনি তাঁর বন্ধুকে নিয়ে মিশরের
প্রশাসক হজরত আমর বিন আল আস (রা) কে বিস্তারিত সব ঘটনা খুলে বলেন এবং নিজ
মদ্যপানের অপরাধে ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী এর শাস্তি চান। তখন আমর (রা) তাকে ও তার
বন্ধুকে তাঁর নিজ ঘরের মধ্যেই বেত্রাঘাত করেন । সেখানে তাদের চুল মণ্ডনও করা হয়।
পরে ওমর (রা) এই ঘটনা জানতে পেরে পত্র মারফত আমর (রা) কে তিরস্কার করেন এবং বলেন
সাধারন মুসলিম জনগণকে যেভাবে জনসম্মুখে শাস্তি দেওয়া হয়, তেমনি আমার
পুত্রকেও সেভাবে শাস্তি প্রদান করা উচিত ছিল।
তিনি আবু শাহমাকে শুধুমাত্র একটি খালি উটে করে মদিনায়
ফেরত পাঠাতে বলেন। মদিনায় পোঁছানর পর পুনরায় জনসম্মুখে হজরত ওমর (রা) নিজে তাকে
বেত্রাঘাতের শাস্তি প্রদান করেন। এর কিছুদিন পর (এক সপ্তাহ বা এক মাস) আবু শাহামা
ইন্তেকাল করেন। তাঁকে জান্নাতুল বাকীতে কবর দেওয়া হয়। এখান থেকে দেখা যায়- ১. আবু
শাহমা হযরত ওমর (রা) এর আঘাতে তাৎক্ষনিক মারা যাননি।
২. ব্যাভিচার তো দূরে থাক আবু শাহমা (রা) ইচ্ছা করে
মদ্যপান করেননি। এরপরেও তিনি নিজে ইসলামী শরীয়তের শাস্তি নিজের উপরে নিয়েছেন
শুধুমাত্র তাঁর মজবুত ঈমানের কারনে।
No comments:
Post a Comment