Showing posts with label ইসলামিক গল্প - Islamic Story. Show all posts
Showing posts with label ইসলামিক গল্প - Islamic Story. Show all posts

Monday, May 5, 2025

আপনি জানেন? ইসলামের একটি যু-*দ্ধ সংঘঠিত হয়েছিল শুধুমাত্র একজন মুসলিম নারীকে বিবস্ত্র করার অপরাধে!






































আপনি জানেন? ইসলামের একটি যু-*দ্ধ সংঘঠিত হয়েছিল শুধুমাত্র একজন মুসলিম নারীকে বিবস্ত্র করার অপরাধে! 

ধর্ষ'ণ তো বহু পরের কথা, মাত্র একজন মুসলিম নারীকে বিব'স্ত্র করার অপরাধের জেরে মদীনার ইহু-দী গোত্র বনু কাইনুকার বিরুদ্ধে রীতিমত যু-*দ্ধ হয়েছিল।

কাহিনী হল, ‘আরবের এক নারী তার পণ্যসামগ্রী নিয়ে বনু কাইনুকার বাজারে এসেছিল। মহিলাটি বাজারে তার পণ্য বিক্রি করে সেখানকার এক স্বর্ণকারের দোকানের সামনে বসেছিল। মহিলার মুখ নেকাবে ঢাকা ছিল। সেখানকার কিছু ইহু-দী তাকে মুখ খোলার জন্য পীড়াপীড়ি করছিল। কিন্তু সেই মহিলা মুখ খুলতে অস্বীকৃতি জানায়। তখন ইহু-দী স্বর্ণকার সেই মহিলার পেছনের দিকের কাপড়ের প্রান্ত কিছু একটা জিনিসের সাথে গিট্টু দিয়ে রাখে। ফলে মহিলাটি যখন উঠে দাঁড়াতে যায় তখনই তার কাপড়ে টান লেগে ছিঁড়ে তার নিতম্ব বিব-*স্ত্র হয়ে পড়ে। এ দৃশ্য দেখে আশপাশের ইহু-দীরা অট্টহাসিতে ফেঁটে পড়ে। মহিলা লজ্জায়, আত'ঙ্কে চিৎকার জুড়ে দেয়। 

এ ঘটনা সেখানের এক মুসলিম যুবক দেখতে পেয়ে সেই ইহু-দী স্বর্ণকারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তৎক্ষণাৎ তাকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু আশপাশের ইহু-দীরাও সেই মুসলিম যুবকের উপর হামলে পড়ে তাকে খু-ন করে ফেলে। তখন সেই মুসলিমের পরিবারের লোকজন মুসলিম সমাজের কাছে ইহু-*দীদের বিরুদ্ধে সাহায্য প্রার্থনা করলে মুসলিম সমাজে প্রতিশোধের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বনু কাইনুকার যু-*দ্ধ সংঘটিত হয়।’

[সীরাতে ইবনে হিশাম : ৩/৩১৪, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া : ৫/৩১৯]

এই হল ইসলামে একজন নারীর ইজ্জত সম্ভ্রম রক্ষার নমুনা। আজকে যারা পাশ্চাত্যের থেকে নারী অধিকারের সবক নিয়ে এদেশে নারী অধিকারের স্লোগান দিচ্ছে তারা তুলনা করে দেখুক — পাশ্চাত্য একজন নারীর ইজ্জত সম্ভ্রমের কতটুকু মর্যাদা দিয়েছে আর ইসলাম কতটুকু মর্যাদা দিয়েছে!

Sunday, May 4, 2025

হযরত ওমরের ছেলের বিচার

  

 

হযরত ওমরের ছেলের বিচার

 

হজরত ওমর (রা) ও তার পুত্র আবু শাহমা এর ব্যপারে বহুল প্রচলিত একটি ভুল ও বানোয়াট গল্প

► সংক্ষেপে প্রচলিত গল্পঃ হযরত ওমর (রা) এর পুত্র আবু শাহমা মদ্যপান করে একটি মহিলার সাথে ব্যাভিচার করে। পড়ে মহিলাটি গর্ভবতী হয়ে পড়ে। একদিন সে তার বাচ্চাকে নিয়ে এসে হজরত ওমর (রাঃ) এর কাছে এই বিষয়ে নালিশ করে। আবু শাহমা তখন খাচ্ছিলেন। সেই অবস্থায় ওমর (রাঃ) তার পুত্রকে তাড়াতাড়ি খাবার শেষ করতে বলে।

এরপর ওমর (রাঃ) মদ্যপান ও ব্যাভিচার করার অপরাধে তাঁর নিজ পুত্র আবু শাহমাকে ১০০ টি দোররা বা বেত্রাঘাত করেন এবং সেখানেই সাথে সাথে তাঁর পুত্র মারা যায়। পরে নিজ পুত্রের কবরের পাশে গিয়ে ওমর (রাঃ) ক্রন্দন করতে থাকে। এই ব্যাভিচার এর বিস্তারিত ঘটনা, স্বীকারোক্তি, শাস্তি, পিতা-পুত্রের কথাবার্তা নিয়ে লম্বা কাহিনী এমনবভাবে প্রচলিত যে তা শুনলে শ্রোতাগণের চোখে পানি চলে আসে। এর সাথে অবাক হয়ে যাই যে হজরত উমার (রা) এর ছেলে মদ্যপান ও ব্যাভিচার এর মত এমন খারাপ কাজ করতে পারল! তখন স্বাভাবিকভাবেই তাঁর ছেলে আবু শাহমা কে খারাপ মনে হয়। কিন্তু সকল মুহাদ্দিসগন একমত যে এটা একটা ভিত্তিহীন, মিথ্যা বানানো গল্প।

ইবনুল জাওযী বলেন, “সাধারন শ্রোতাদেরকে কাঁদানোর জন্য জাহিল ওয়ায়েযগন এগুলো বানিয়েছে"। ► প্রকৃত সত্য ইতিহাসঃ এখন আমরা জানবো প্রকৃত সত্য ইতিহাস যা আবু শাহমার ভাই ইবনে উমার (রা), সেখান থেকে সালিম, সেখান থেকে মুয়াম্মার সেখান থেকে আবদ-আল-রাজ্জাক (ইমাম বুখারির শিক্ষক) তাঁর “মুসান্নাফ আবদ-আল-রাজ্জাক” গ্রন্থে বর্ণিত করেছেন। সঠিক ঘটনা হলঃ হযরত উমার (রা) এর পুত্র আবু শাহমার পূর্ণনাম হল আব্দুল রাহমান আবু শাহমা। তিনি মুসলিম সেনাবাহিনীর হয়ে মিশরে যুদ্ধ করে জয়লাভ করার পর সেখানেই অবস্থান করেন। একদিন তিনি তাঁর বন্ধুকে নিয়ে নাবীয (খেজুর ভিজিয়ে তৈরি করা শরবত) পান করেন।

কোন কারনে এই খেজুরের শরবতে মাদকতা এসে গিয়েছিল, ফলে তাদের মাঝেও অনিচ্ছাকৃতভাবে হলেও মাতলামি চলে আসে। পরদিন তিনি তাঁর বন্ধুকে নিয়ে মিশরের প্রশাসক হজরত আমর বিন আল আস (রা) কে বিস্তারিত সব ঘটনা খুলে বলেন এবং নিজ মদ্যপানের অপরাধে ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী এর শাস্তি চান। তখন আমর (রা) তাকে ও তার বন্ধুকে তাঁর নিজ ঘরের মধ্যেই বেত্রাঘাত করেন । সেখানে তাদের চুল মণ্ডনও করা হয়। পরে ওমর (রা) এই ঘটনা জানতে পেরে পত্র মারফত আমর (রা) কে তিরস্কার করেন এবং বলেন সাধারন মুসলিম জনগণকে যেভাবে জনসম্মুখে শাস্তি দেওয়া হয়, তেমনি আমার পুত্রকেও সেভাবে শাস্তি প্রদান করা উচিত ছিল।

তিনি আবু শাহমাকে শুধুমাত্র একটি খালি উটে করে মদিনায় ফেরত পাঠাতে বলেন। মদিনায় পোঁছানর পর পুনরায় জনসম্মুখে হজরত ওমর (রা) নিজে তাকে বেত্রাঘাতের শাস্তি প্রদান করেন। এর কিছুদিন পর (এক সপ্তাহ বা এক মাস) আবু শাহামা ইন্তেকাল করেন। তাঁকে জান্নাতুল বাকীতে কবর দেওয়া হয়। এখান থেকে দেখা যায়- ১. আবু শাহমা হযরত ওমর (রা) এর আঘাতে তাৎক্ষনিক মারা যাননি।

২. ব্যাভিচার তো দূরে থাক আবু শাহমা (রা) ইচ্ছা করে মদ্যপান করেননি। এরপরেও তিনি নিজে ইসলামী শরীয়তের শাস্তি নিজের উপরে নিয়েছেন শুধুমাত্র তাঁর মজবুত ঈমানের কারনে। 

ন্যায়পরায়ণ শাসক হজরত ওমর (রা.)

ন্যায়পরায়ণ শাসক হজরত ওমর (রা.)


ঢাকা : খোলাফায়ে রাশেদিনের চার খলিফার সবাই ছিলেন ন্যায়পরায়ণতার প্রতীক। এদিক থেকে হজরত ওমর (রা.)-এর সততা ও ন্যায়পরায়ণতা ছিল কিংবদন্তির পর্যায়ে। মিসর বিজয়ী সেনাপতি আমর ইবনুল আস তখন মিসরের গভর্নর। তাঁর শাসনে মিসরের জনগণ বেশ শান্তিতেই কাটাচ্ছিল। কিন্তু তাঁর পুত্রের বেয়াড়াপনায় গভর্নরের ন্যায়পরায়ণতার সুনাম নষ্ট হচ্ছিল। সে যখনই পথে বেরোত, নিজের চালচলন দ্বারা সবাইকে বুঝিয়ে দিত সে সাধারণ কেউ নয়, গভর্নরের ছেলে। একদিন সে একজন মিসরীয় খ্রিস্টানের ছেলেকে প্রহার করল। গরিব খ্রিস্টান গভর্নরের কাছে তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার সাহস পেল না। তাঁর এক প্রতিবেশী মদিনা থেকে ফিরে এসে জানাল, খলিফা ওমর (রা.) অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ শাসক। তিনি জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করেন এবং কেউ কারোর ওপর জুলুম করেছে জানলে কঠোর শাস্তি দেন। এ কথা শুনে ওই মিসরীয় খ্রিস্টান মদিনায় খলিফার কাছে গভর্নরের ছেলের বিপক্ষে অভিযোগ করলেন। হজরত ওমর (রা.) তৎক্ষণাৎ আমর ইবনুল আস এবং তাঁর ছেলেকে মদিনায় ডেকে এনে আনীত অভিযোগের বিচারে আদালত বসালেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ দ্বারা আমর ইবনুল আসের (রা.) ছেলে দোষী প্রমাণিত হলো। খলিফা ওমর (রা.) অভিযোগকারীর ছেলেকে বললেন, সে তোমাকে যেভাবে প্রহার করেছে তুমিও সেভাবে ঠিক ততখানি প্রহার কর। তারপর খলিফা বললেন, প্রজারা শাসকের দাস নয়। শাসকরা প্রজাদের সেবক। প্রজারা ঠিক তেমনি স্বাধীন যেমন তাদের মায়ের পেট থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় স্বাধীন।

হজরত ওমরের (রা.) ন্যায়পরায়ণতা ছিল অতুলনীয়। একবার কিছু সুগন্ধি দ্রব্য বাহরাইন থেকে ওমরের (রা.) নিকট পাঠানো হলো। তিনি সমবেত জনতাকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছ কি, যে এ সুগন্ধি দ্রব্য মেপে সমান ভাগ করে মুসলমানের মধ্যে বণ্টন করতে পার? ওমরের (রা.) স্ত্রী হজরত আতেকা বললেন, আমি পারব। ওমর (রা.) বললেন, আতেকা ছাড়া আর কেউ আছে কি? আতেকা বললেন, আমিরুল মোমিনিন, আমি মেপে দিলে অসুবিধা কী?
ওমর (রা.) বললেন, আমার আশঙ্কা হয়, মাপার সময় তুমি জিনিসটা হাত দিয়ে ধরবে এবং তোমার হাত সুবাসিত হয়ে যাবে। এরপর সেই সুবাসিত হাত তুমি মুখে মেখে নেবে এবং সুগন্ধি উপভোগ করবে। অন্যদের চেয়ে এতটুকু বাড়তি সুবিধা তুমি পেয়ে যাও, তা আমি পছন্দ করি না। ন্যায়পরায়ণতাকে উৎসাহিত করতেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা। খলিফা ওমর (রা.) গভীর রাতে ছদ্মবেশে একদিন মদিনার প্রজাদের খোঁজখবর নিচ্ছিলেন। এ সময় দেখতে পেলেন এক রাখাল এক পাল ছাগল নিয়ে যাচ্ছে। তিনি রাখালকে পরীক্ষা করার জন্য বললেন, এ ছাগলগুলোর মধ্যে যে কোনো একটি ছাগল আমার কাছে বিক্রি করে দাও। রাখাল বলল, এ ছাগলগুলো আমার নয়, আমার মনিবের। ওমর (রা.) বললেন, মনিব তো দেখতে পাবে না। একটা ছাগল বেঁচে দাও। আর মনিবকে বলে দিও যে, একটি ছাগল বাঘে খেয়ে ফেলেছে। রাখাল রেগে চিৎকার করে বলে উঠল, আল্লাহ কি দেখতে পান না? তার কথায় হজরত ওমর (রা.) চুপ করে রইলেন। রাখাল রাগে গরগর করতে করতে ছাগল নিয়ে চলে গেল। পরদিন সকালে ওমর (রা.) ওই রাখালের মনিবের কাছে গেলেন এবং তাকে কিনে নিয়ে স্বাধীন করে দিলেন। বললেন, ওহে যুবক! কাল তুমি আল্লাহ সম্পর্কে যে কথাটি বলেছিলে তা আজ তোমার দুনিয়ার গোলামি চুকিয়ে দিল। আমি আশা করি তোমার এ খোদাভীতি কেয়ামতের দিন দোজখের আজাব থেকেও মুক্তি দেবে।

একবার হজরত ওমর (রা.) এক বেদুইনের কাছ থেকে ঘোড়া কিনলেন। ঘোড়ার দাম পরিশোধ করেই তিনি ঘোড়ায় চড়লেন। কিছু দূর যেতেই ঘোড়াটি হোঁচট খেয়ে খোঁড়া হয়ে গেল। ওমর (রা.) ভাবলেন ঘোড়াটির আগে থেকেই পায়ে কোনো খুঁত ছিল, যা সামান্য ধাক্কা খেয়ে ভেঙে গেছে। তিনি ঘোড়ার মালিককে বললেন, তোমার ঘোড়া ফেরত নাও। এর পা ভাঙা। সে বলল- আমিরুল মোমিনিন! আমি ফেরত নিতে পারব না। কারণ আমি যখন বিক্রি করেছি, তখন ঘোড়াটি ভালো ছিল। ওমর (রা.) বললেন, ঠিক আছে। একজন সালিশ মানা হোক। সে আমাদের বিরোধ মিটিয়ে দেবে। লোকটি বলল, শুরাইহ বিন হারিস কান্দি নামে একজন ভালো জ্ঞানী লোককে আমি চিনি। তাঁকেই সালিশ মানা হোক। ওমর (রা.) রাজি হলেন। উভয়ে সালিশের জন্য গেলে শুরাইহ খলিফাকে জিজ্ঞেস করলেন, আমিরুল মোমিনিন! আপনি কি ঘোড়াটি সুস্থ অবস্থায় কিনেছিলেন? ওমর (রা.) বললেন, হ্যাঁ। শুরাইহ বললেন, তাহলে ঘোড়াটি ফেরত দিতে হলে যে অবস্থায় কিনেছিলেন সে অবস্থায় ফেরত দিন। এ কথা শুনে ওমর (রা.) চমৎকৃত হয়ে বললেন, তুমি নির্ভুল ও ন্যায্য রায় দিয়েছ। তুমি কুফা চলে যাও। আজ থেকে তুমি কুফার বিচারপতি। সেই থেকে দীর্ঘ ৬০ বছর তিনি বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। হজরত আলীর (রা.) সময়ে তিনি খলিফার বিরুদ্ধে অনুরূপ আর একটি রায় দিয়ে প্রধান বিচারপতি পদে উন্নীত হন। তারপর উমাইয়া শাসনকালে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের স্বেচ্ছাচারিতায় বিরক্ত হয়ে তিনি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত কোনো শাসকই তাঁকে পদচ্যুত করার সাহস পাননি।

 

Syll Jam

 Syll Jam